আজ ঢাকার কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে যৌনসন্ত্রাস বিরোধী গণ কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির এক গণ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এই কনভেনশনে সারাদেশে সংগঠিত যৌনসন্ত্রাস, যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের জন্য পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।

যৌনসন্ত্রাস বিরোধী গণ কনভেনশনে কয়েক পর্বে নারী নিপীড়ন, ধর্ষণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বের ডা. লেলিন চৌধুরির সভাপতিত্বে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের নেত্রী বিচিত্রা তির্কী, অধ্যাপক মাহফুজা খানম এবং বিচারপতি জিনাত আরা। বিচিত্রা তির্কী তার বক্তব্যে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘যে স্বাধীন দেশে ধর্ষক পার পেয়ে যায়, বিচার হয়না, প্রতিনিয়ত নারীরা ধর্ষণের শিকার হয় সে স্বাধীনতার কোন মূল্য নেই’।

বিচারপতি জিনাত আরা তার বক্তব্যে বলেন, ‘পতিতা তার বেঁচে থাকার প্রয়োজনে এ পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়, তাকেও ধর্ষণ করবার অধিকার কারোর নাই।’ পর্দা করার পরও নারীরা নানাভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পরিবারে পুত্র সন্তানের সাথে কন্যা সন্তানকে সমান গুরুত্ব দেয়ারও আহবান রাখেন তিনি।

কনভেনশনের দ্বিতীয় পর্বে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডা. লেলিন চৌধুরি। মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন বক্তারা। অধ্যাপক তানজিম উদ্দীন খান তার বক্তব্যে বলেন, ‘দেশে যে নিপীড়নের ঘটনা ঘটে, যারা এই অপরাধ করেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকে। দেশের রাজনীতি কাঠামো এমন অবস্থার সৃষ্টি করেছে যে, অপরাধীদেরও বাঁচিয়ে দেয়া যায়।’ এই অবস্থার অবসানের লক্ষ্যে বিষয়গুলোকে আরো গভীর পর্যবেক্ষণ ও এর বিপরীতে মানুষের ঐক্যের প্রয়োজন আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাসিম আখতার হুসাইন তার আলোচনায় বলেন, ‘নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নতি করছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদেরকে আর পুরনো কায়দায় নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা বলেই পুরুষতন্ত্র ধর্ষণকে নতুন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে হয়তো।’ ধর্ষণ, নিপীড়ণের বিরুদ্ধে লড়াইকে মৌল মানবিক চাহিদা নয়, বরং অস্ত্বিত্বের, আত্মমর্যাদার লড়াই বলেও অভিহিত করেন তিনি।

কনভেনশনের তৃতীয় পর্বে উপস্থিত ছাত্র, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, মানবাধিকার কর্মী, ছাত্রনেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের বক্তব্য শোনা হয়। চতুর্থ পর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনাসহ একটি আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ডা. লেলিন চৌধুরি আহবায়ক এবং মোখলেসুর রহমান সাগর, তারিক হোসেন মিঠুল ও ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বলকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়।