সাবেক ছাত্রনেতা ও ক্ষেতমজুর নেতা সদ্য প্রয়াত কমরেড আসলামউদ্দিন এর শোক সভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মরণব্যাধী ক্যান্সার অকালে তাঁর জীবনকে নিয়ে গেলেও তিনি তার কাজের মধ্য দিয়ে জীবনকে পূর্ণ করে গেছেন। শোষিত-বঞ্চিত গণমানুষের পক্ষে সোচ্চার থেকেই তাকে স্মরণ করতে হবে।
৭ এপ্রিল ২০১৮ বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক রাজনীতিক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
বক্তব্য রাখেন, কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আনোয়ারুল হক, অধ্যাপক এম.এম আকাশ, ডা. সাজেদুল হক রুবেল, আবু তাহের বকুল, এ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা, জাহিদ হোসেন খান, আজাদ হোসেন, লিটন নন্দী, আলিফ দেওয়ান, আব্দুল কাশেম, শেখ রফিক, চিররঞ্জন সরকার, শাহনাজ সুমী, নজরুল ইসলাম, তারিক হোসেন মিঠুল, শরীফুজ্জামান শরীফ, আলমগীর সিকদার, লিয়াকত হোসেন খান প্রমূখ ।
এর আগে উপস্থিত সকলে প্রায়তের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী ও বিপ্লব সরকারের স্মরণ সংগীত এবং ১ মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় প্রয়াতের জীবনালেখ্য পাঠ করেন কবি সাখাওয়াত টিপু। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব বিকাশ সাহা।

শোক সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনীতিক আসলামউদ্দিন ছাত্রজীবনে শিক্ষার অধিকার আদায়, স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম, ক্ষেতমজুরসহ শ্রমজীবী মানুষকে সংগঠিত করার পাশাপাশি এলাকায় সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও বিজ্ঞান আন্দোলন গড়ে তুলে ঘুনে ধরা সমাজকে ঝাঁকুনি দেওয়ার কাজ করেছেন। বহুমূখী কাজের ধারায় তিনি নিজেকে সকলের মাঝে অনন্য করে তুলেছেন।
প্রয়াত আসলামউদ্দিনকে ‘বিপ্লবের স্বপ্নচারী’ আখ্যায়িত করে বক্তারা বলেন, এখনকার সময়ে সমাজ ও রাজনীতির দূর্বৃত্তায়িত ধারাকে পরাস্ত করতে তার মত সংগঠক প্রয়োজন। ছমির বাউল ও তার দলের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং স্মরণ সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, টাংগাইলের নাগরপুর সরকারি কলেজের সাবেক জিএস ও ভিপি, নাগরপুর বার্তার সম্পাদক, পুস্তক বাঁধাই শ্রমিকদের নেতা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সূত্রাপুর থানা কমিটির সদস্য, বিজ্ঞান আন্দোলনের সংগঠক কমরেড আসলামউদ্দিন গত ১৭ মার্চ ২০১৮, ৫৫ বছর বয়সে প্রয়াত হন।