গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নিহত সাঁওতাল রমেশ টুডুর মরদেহ মঙ্গলবার কবর থেকে তোলা হয়েছে। রমেশ টুডু পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন—সাঁওতালদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্তবিহীন লাশটি তোলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এখন ময়নাতদন্ত হবে।
সাপমারা ইউনিয়নের সিনটাজুড়ি গ্রামের নিহত রমেশ টুডুর মরদেহ মঙ্গলবার দুপুরে কবর থেকে তোলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা।
পিবিআইয়ের গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন মিয়া সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্যামল হেমব্রম ও দিনাজপুরের মঙ্গল মার্ডি মারা যান। পরে সাঁওতালদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়ওঠে, রমেশ টুডু ওই হামলায় মারা যান।
আনোয়ার হোসেন মিয়া সাংবাদিকদের জানান, সে সময় শ্যামল ও মঙ্গলের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। কিন্তু তখন রমেশ টুডুর ময়নাতদন্ত হয়নি। এ ব্যাপারে আদালতে আবেদন করা হলে আদালতের নির্দেশে রমেশ টুডুর মরদেহ উত্তোলন করা হয়। তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে দীর্ঘ ১ বছর ৩ মাস ৭ দিন পর গোবিন্দগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাফিউল আলম, চিকিৎসক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে রমেশ টুডুর মরদেহের হাড়গোড়, মাথার খুলিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ তোলা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ চিনিকলে পুলিশ ও বহিরাগতদের হামলায় তিন জন সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন।