সতেজ চাকমা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া জুম্ম শিক্ষার্থীদের টিএসসি ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম লিটারেচার এন্ড কালচারাল সোসাইটির উদ্যোগে আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি রোজ শনিবার দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে “ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উৎসব” এর আয়োজন করা হয়েছে। দেশের মূল ভাষাভাষী বাঙালী জনগোষ্ঠী ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করছে তের ভাষা-ভাষাভাষী চৌদ্দটি আদিবাসী জুম্ম জনগোষ্ঠী।তাদের রয়েছে স্বকীয় শিল্প, সাহিত্য,ইতিহাস,ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি । তাদের এ স্বকীয় শিল্প, সাহিত্য,ইতিহাস,ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে প্রচার ও প্রসারের লক্ষে এ সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে সকালে রয়েছে মাতৃভাষায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা,মাতৃভাষায় উপস্থিত বক্তৃতা, মাতৃভাষায় কবিতা আবৃত্তি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ভিত্তিক ছবি প্রদর্শনী। বিকালে রয়েছে অালোচনা সভা ও সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় জুম লিটারেচার এন্ড কালচারাল সোসাইটির সভাপতি এডিট দেওয়ান বলেন, “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে প্রতিবছর আমরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান রেখে দেশের মূলস্রোতধারার বাঙালী ভাষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি অপরাপর অন্যান্য ভাষা ও সংস্কৃতিগুলোকে চর্চার মাধ্যমে মূল জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে মেলবন্ধন সৃষ্টির জন্যই আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস।” সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক জয়শ্রী চাকমা বলেন, আগামীকালকের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের পাশাপাশি পরিবেশিত হবে সমতলে বসবাসকারী দেশের অন্যতম একটি আদিবাসী গারো জনগোষ্ঠীর নাচ।” তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারন করে দেশের সকল জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন ও সংহতি সৃষ্টি করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নেই আমাদের এই আয়োজন ।
আয়োজক সংগঠনটির চলমান কমিটির মেয়াদ আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে সামনের দিনে এ সংগঠনটি পরিচালনার জন্য নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নিবে বলেও জানান সংগঠনটির বর্তমান সাধারন সম্পাদক হীরা চাকমা। তিনি উক্ত উৎসবে ঢাকা শহরে অবস্থানরত সকল আদিবাসী ও বাঙালীদের আমন্ত্রণ জানান। বৈচিত্র্যময়তায় বেঁচে থাকুক জুম্ম সংস্কৃতি- এ স্লোগানকে ধারন করে এবারের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের উপাসনালয়ে।