পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা জুম্ম শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান বছরের প্রথম ”গেট টুগেদার” সম্পন্ন হয়ে গেল । গত ২৬ জানুয়ারি রোজ শুক্রবার বিকাল ৩.০০ ঘটিকার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের শহীদ মিনারের পাদদেশ সংলগ্ন খোলা মাঠে জুম্ম শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিলনমেলা খ্যাত এ গেট টুগেদারটি সম্পন্ন হয় । প্রতি বছরের ন্যায় বছরের প্রথম গেট টুগেদারে প্রধান আকর্ষন নবীন জুম্ম শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করার মধ্য দিয়ে জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হল জুম পাহাড়ের প্রায় অর্ধশতাধিক জুম্ম শিক্ষার্থীকে ।
পরিচয় পর্বের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া গেট টুগেদারটির পরিচয় পর্ব শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা ভালোবাসা স্বরূপ সম্মিলিতভাবে একটি চাকমা গান গেয়ে শুনান।দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী রাতুল তঞ্চঙ্গ্যা ও টরা তঞ্চঙ্গ্যার যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দ্বিতীয় বর্ষের শান্তনু চাকমা । ঢাকা বিশ্ববিদালয়ে ভর্তি হওয়া তথা জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের সাথে অন্তর্ভুক্ত হতে পারার অনুভূতি ব্যক্ত করেন প্রথম বর্ষের নবীন তিন শিক্ষার্থী শুভ চাকমা, রিনাকি চাকমা ও লাউলং ম্রো।
উল্লেখ্য যে, এবছর পাহাড়ের ১৪ টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া ম্রো জনগোষ্ঠী থেকে একসাথে তিন জন ম্রো শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের মাষ্টার্সের সিনিয়র শিক্ষার্থী নিউটন চাকমা ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উদ্যাগের সাথে পরিচয় করিয়ে সেসব উদ্যোগের সাথে নবীন শিক্ষার্থীদের একাত্ম থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী সতেজ চাকমা, তৃতীয় বর্ষের রুনি চাকমা ও জিনেট চাকমা, চতুর্থ বর্ষের অরুন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ,মাষ্টার্সের সিনিয়র শিক্ষার্থী রুপেশ চাকমা এবং সিনিয়ন শিক্ষার্থী নিপন ত্রিপুরা ।
ফাঁকে ফাঁকে গান গেয়ে চলমান প্রানবন্ত গেট টুগেদারটির পরিসমাপ্তি ঘটে গেট টুগেদারটির সভাপতি অমর শান্তি চাকমার সমাপনি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ।
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুম্ম শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের শিল্প,সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জুম্ম জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক চেতনা চর্চার মাধ্যমে নিজেদের বিকাশের পাশাপাশি শেকড়কে তুলে ধরার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।চলমান পড়ালেখা ও বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্যেও সিনিয়র-জুনিয়র সবার মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা তথা জুম-পাহাড় নিয়ে তাদের ভাবনার সহভাগীতা করে জুম পাহাড়ের বিভিন্ন বাস্তবতার সাথে তারা নানা উদ্যোগ,সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহন করে থাকে এ মাসিক, দ্বিমাসিক কিংবা ত্রৈমাসিক এ গেট টুগেদারের মাধ্যমে ।