নিজস্ব প্রতিবেদক,২৬ জানুয়ারি,ঢাকাঃ আজ সকালে রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়িতে মারমা কিশোরী ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগে এক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে । সমাবেশে ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের শাস্তি, ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার পরিবারকে হয়রানি বন্ধ ও সুচিকিত্সা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থার দাবী তোলা হয় ।
নাগরিক সমাবেশ থেকে জানানো হয় গত ২২ জানুয়ারি রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ওরাছড়ি গ্রামে এক মারমা কিশোরী(১৭) ফারুয়া সেনাক্যাম্পের সেনাসদস্য কর্তৃক নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং তার ছোটবোন (১৫) শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে । অভিযোগ পাওয়া গেছে, ১৩ বেঙ্গলের দীঘলছড়ি সেনা জোনের অধীন ফারুয়া সেনা ক্যাম্পের সুবেদার মিজানের নেতৃত্বে তল্লাসী অভিযান চলাকালে দুই সেনা সদস্য কিশোরীর বাড়িতে ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন । এ সময় কিশোরীর বাবা-মাকে অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে রাখা হয় ।
সমাবেশ থেকে অভিযোগ যথাযথ তদন্ত করে দোষী সেনা সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী তোলেন বক্তারা ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আদিবাসী নারীদের ধর্ষণ আসলে তাদের অপমানিত করে ক্ষমতাহীন, উচ্ছেদ, ভূমি দখল করবার জন্য করা হয় । ধর্ষণ বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়, সেগুলোরই অংশ ।তিনি সেনাবাহিনীকে বলেন, দুই একজনের জন্য পুরো সেনাবাহিনী দায় নিতে পারেনা ।
পার্বত্য চট্টগ্রামকে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছে বলে জানান ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য । তিনি বলেন পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন ধর্ষণ হত্যা বা শ্লীলতাহানির বিচার হয়েছে বলে আমার জানা নাই । দিনে দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামকে শ্লীলতাহানির অভয়ারণ্য করে ফেলা হয়েছে ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, বাংলাদেশ যেমন ব্রিটিশদের, পাকিস্তানীদের উপনিবেশ ছিলো, তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপনিবেশ করে রেখেছি যা লজ্জাকর । পার্বত্য চট্টগ্রামকে যতদিন সেনাবাহিনীহীন করা না যাবে, ততদিন ধর্ষণ বন্ধ হবেনা ।
আদিবাসী ফোরামের সম্পাদক সন্জীব দ্রং বলেন, দেশে যখন আমার মা বোন ধর্ষিত হয়, তখন আসলে বাংলাদেশ ধর্ষিত হয় ।যখন আমার মা বোন ন্যায্য বিচার পায়না, তখন আমার বাংলাদেশ বিচার পায়না ।দেশে এখন বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে । আমরা এর থেকে মুক্তি চাই, বাংলাদেশকে সবার বাসযোগ্য করতে চাই ।
নাগরিক সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সম্পাদক এ্যাড. রানা দাশগুপ্ত, নাট্যকার মামুনুর রশিদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য দীপায়ন খীসা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ওয়াসিউর রহমান তন্ময়, মহিলা পরিষদের রেখা চৌধুরি সহ আদিবাসী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীবৃন্দ ।