২২ জানুয়ারি ২০১৮ রাত আনুমানিক ১২:০০ টা থেকে ১:০০টায় তক্তানালা ক্যাম্পের একদল সেনা কর্তৃক বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের তক্তানালা দক্ষিণ পাড়ায় তল্লাসী অভিযান চালানো হয়। এতে সেনা সদস্যরা জুম্মদের ২৪টি ঘরবাড়িতে ব্যাপক তল্লাসী চালায়। তল্লাসী চলাকালে ঘরের জিনিষপত্র তছনছ করে। জনসংহতি সমিতির সদস্যরা কোথায়, তারা কোথায় থাকে দেখিয়ে দিতে হবেÑ ইত্যাদি জিজ্ঞাসাবাদ করে হুমকি প্রদান করে। সেনা সদস্যরা যাদের ঘরবাড়ি তল্লাসী করেছে, তাদের মধ্যে নিম্নোক্ত ৮ জন গ্রামবাসীর নাম পাওয়া গেছে-

১. বাতোয়াই মারমা (৪৮) পীং সাপ্যা মারমা;

২. তজন মারমা (১৮) পীয় বাতোয়াই মারমা;

৩. জ্যোতিবাবু তঞ্চঙ্গ্যা (২০);

৪. দয়াল তঞ্চঙ্গ্যা (১৮) পীং অনুজ কুমার তঞ্চঙ্গ্যা;

৫. পুলক মারমা (২৪) পীং ফুলসে মারমা;

৬. অনিল তঞ্চঙ্গ্যা (৩০) পীং শুন্য চক্র তঞ্চঙ্গ্যা;

৭. ভরত চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা (৩৫) পীং কেগেচ্চা তঞ্চঙ্গ্যা;

৮. বেল কুমার তঞ্চঙ্গ্যা (৩৩) পীং ভবমোহন তঞ্চঙ্গ্যা।

উল্লেখিত গ্রামবাসীদের মধ্যে প্রথম ৫ জনকে, যথাক্রমে বাতোয়াই মারমা, তজন মারমা, জ্যোতিবাবু তঞ্চঙ্গ্যা, দয়াল তঞ্চঙ্গ্যা ও পুলক মারমা প্রমুখ গ্রামবাসীদেরকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। অহেতুক জিজ্ঞাসাবাদ ও হয়রানি করার পর সকালে তাদেরকে ছেড়ে দেয় বলে জানা যায়।

অন্য আরেকটি খবরে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি ২০১৮ দিবাগত রাত আনুমানিক ৩:০০ টায় রাঙ্গামাটি জেলাধীন বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে ফারুয়া সেনা ক্যাম্পের একদল সেনাসদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির এগোজ্যাছড়ি গ্রাম কমিটির সদস্য নতুন বাবু তঞ্চঙ্গ্যা (৩৪) পীং গন্ধরাজ তঞ্চঙ্গ্যা ও ভন্দ তঞ্চঙ্গ্যা (৩৩) পীং ফুলশমনি তঞ্চঙ্গ্যাকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ক্যাম্পে আটক করে রাখে। সেনাসদস্যরা ফারুয়া সেনা ক্যাম্পে আটকাধীন অবস্থায় নতুন বাবু তঞ্চঙ্গ্যা ও ভন্দ তঞ্চঙ্গ্যাকে ব্যাপক মারধর করে এবং নানা ভিত্তিহীন প্রশ্ন করে মানসিক নির্যাতন চালায়। এরপর ঐদিন দুপুরের দিকে সেনা সদস্যরা আটককৃত উক্ত দুই ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় জড়িত করে বিলাইছড়ি থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। জানা গেছে, ২২ জানুয়ারি ২০১৮ সকালের দিকে আটককৃতদের রাঙ্গামাটি জেলা জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ তথ্য ও প্রচার বিভাগ; পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি