যোগ করা সময়ের খেলা চলছিল। বামপ্রান্ত থেকে আবাহনীর সোহেল রানাকে বল বাড়িয়ে দিয়ে সানডে সিজোবা ডি বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়লেন। সোহেল রানা ডি বক্সের ভেতর আবার সানডেকে বল বাড়িয়ে দিলেন।

তখন সানডের সামনে গোলরক্ষক ও একজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। সানডে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে ফাঁকি দিলেন। এরপর রেইনবো শট নিলেন। বল ডানপ্রান্তের ওপরের অংশে লেগে জালে আশ্রয় নিল। সানডে এলোপাথাড়ি দৌঁড়াতে শুরু করলেন। তার পেছনে অন্য খেলোয়াড়রা।

গ্যালারি থেকে লোহার দেয়াল টপকে আবাহনীর সমর্থকরাও ছুটল মাঠের কোণে। আবাহনী যে এগিয়ে গেছে ২-০ গোলে। শিরোপা যে নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের। আনুষ্ঠানিকতা শুধু বাকি। এরপর দর্শকদের নিবৃত্ত করে আবার খেলা শুরু হলো। খানিক পরেই রেফারির লম্বা বাঁশি। ঝড়ের বেগে দর্শকরা সব মাঠে প্রবেশ করে নাচতে শুরু করল ঢাকা আবাহনীর খেলোয়াড়দের ঘিরে। এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের শিরোপা নিশ্চিত করেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

এটা আবাহনীর টানা দ্বিতীয় ও রেকর্ড ষষ্ঠ শিরোপা। এর আগে ২০০৭, ২০০৮-০৯, ২০০৯-১০, ২০১২ ও ২০১৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আকাশি-নীল জার্সিধারীরা।

জয় পেলেই শিরোপা- এমন সমীকরণ সামনে রেখে শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মাঠে নামে আবাহনী লিমিটেড। তাদের প্রতিপক্ষ শিরোপা প্রত্যাশী শেখ জামাল। আজ আবাহনীকে হারিয়ে দিতে পারলে জামালের সামনেও সুযোগ থাকত শিরোপা জয়ের। কিন্তু ম্যাচের ২৪ মিনিটে নাসির উদ্দিন চৌধুরী গোল করে শুরুতেই পিছিয়ে দেন শেখ জামালকে। এ সময় ডান প্রান্ত থেকে সোহেল রানার বাড়িয়ে দেওয়া বল খুব কাছ থেকে নাসির হেড দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন। তার গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আবাহনী।

বিরতির পর ম্যাচের যোগ করা সময়ে সানডে সিজোবা গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন, নিশ্চিত করেন লিগ শিরোপাও।

অবশ্য শেখ জামাল ম্যাচে ফেরার বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি, পারেনি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতেও।