পূর্নিমা নকরেক; মধুপর:
“লড়াই হলো তুষের আগুন
তুমি ভাবছ তা নিভে গেল
কিন্তু তা নেভে না।
বাতাসে যদি তুষ ওড়ায়
এদিক-ওদিক আগুন জ্বলে
শুকনো ঘাসে, শুকনো কাঠে।
সে-আগুনে গা সেকা যায় না
সে আগুন থেকে কাঠ জ্বেলে নিতে হয়।”

আজ ৩ জানুয়ারি,২০১৮ জাতিতাত্ত্বিক লোকায়ত জ্ঞান ও সংস্কৃতি পাঠকেন্দ্র-মৃত্তিকার উদ্যোগে মধুপরে ইকোপার্ক বিরোধী আন্দোলনে শহীদ পীরেন স্নালের মহান আত্মত্যাগের চতুর্দশ বার্ষিকী পালন করা হয়। সকাল ৯ টায় মৃত্তিকার একটি র‍্যালী জয়নাগাছা গ্রামে পীরেন স্নালের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান সংগঠনের সদস্যরা। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে জয়নাগাছা স্কুল মাঠে মৃত্তিকার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের সহসভাপতি শাওন রুগার সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ২০০৪ সালের ইকোপার্ক বিরোধী আন্দোলনের নেতা জনাব অজয় এ মৃ, মিঠুন হাগিদক প্রমুখ । বক্তারা কালক্ষেপন না করে অবিলম্বে পীরেন হত্যার সুষ্ঠু বিচারকাজ শেষ করে অপরাধীদের শাস্তির জোর দাবি জানান। এছাড়া মধুপুরসহ সারা দেশে আদিবাসী উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধের হুশিয়ার জানান। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন শহীদ পীরেন স্নালের বাবা নেজেন্দ্র নকরেক, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সেক্রেটারী জনাব থমাস কুবি, বাগাছাস নেতা শ্যামল মানখিন, জন যেত্রা, মৃত্তিকার পান্থু সিমসাং, লিজা নকরেক, পূর্নিমা নকরেক প্রমুখ । সমাবেশ শেষে মৃত্তিকা সংস্কৃতি কেন্দ্র’র সদস্যরা জাগরনী গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মৃত্তিকা কার্যনির্বাহী পর্ষদের সাধারন সম্পাদক ওয়েলসন নকরেক। জয়নাগাছা অনুষ্ঠান শেষে মৃত্তিকার র‍্যালী জালাবাদাতে পীরেন স্নালের খিম্মায় পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।