মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল ফাইনালের ‘ড্রেস রিহার্সেল’ দারুণ হলো বাংলাদেশের। রবিবার যেই ভারতের বিপক্ষে শিরোপার লড়াই, সেই ভারতকেই তারা ৩-০ গোলে হারালো লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে।

বৃহস্পতিবার ফেভারিট হিসেবেই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল মাঠে। অবশ্য শুরু থেকে ভারত পাত্তা পায়নি। স্বাগতিকরা খেলেছে আধিপত্য বিস্তার করে, যেটা তারা ধরে রেখেছিল শেষ মিনিট পর্যন্ত। আনুচিং মোগিনী, শামসুন্নাহার ও মনিকা দেবীর গোলে জয়ও পেয়েছে দাপটের সঙ্গে। অপরাজিত থেকে ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে তারা।

ভারতের বিপক্ষেই ফাইনাল। তাই এ ম্যাচকে দেখা হচ্ছিল শিরোপার লড়াইয়ের মহড়া হিসেবে। সেখানে দারুণ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলো তারা। নেপাল ও ভুটানকে হারানোর পর লিগের শেষ ম্যাচেও ভারতকে হারালো আনুচিং-আঁখিরা। ফাইনালের মঞ্চে নামার আগে নিশ্চিতভাবে এ জয় আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে তাদের জন্য।

একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনে বাংলাদেশ মাঠে নেমেছিল। কিন্তু ফল পাল্টায়নি। আগের দুই ম্যাচের মতো একতরফা খেলে জয় পেয়েছে। যদিও প্রথম ১০ মিনিটে তিনটি সুযোগ নষ্ট করেছিল বাংলাদেশ। ৫ মিনিটে আখিঁ খাতুনের শট গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ডান প্রান্ত থেকে ৮ মিনিটে সাজেদার ক্রসে ঋতুপর্নার শট গোলবারের ওপর দিয়ে গেছে। এর চার মিনিট পর শামসুন্নাহারের ক্রসে সাজেদা গোলরক্ষকের সামনে থেকে বারের ওপর দিয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন।

সাজেদার জায়গায় আনুচিং মোগিনী নেমেছেন ২৬ মিনটে। নামার ৬ মিনিটের মধ্যে পেয়ে যান গোল। ৩২ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে মনিকার কর্নার থেকে আনুচিং নিচু হেডে দলকে এগিয়ে নেন ১-০ তে।

৩৫ মিনিটে ডিফেন্স ভেদ করা মনিকার পাসে আনুচিং গোলরক্ষক বরাবর শট নেন। পরের মিনিটেই তার নেওয়া শট পোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়।

শুরু থেকে দাপট দেখানো বাংলাদেশ ব্যবধান দ্বিগুণ করে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে। মিডফিল্ডার শামসুন্নাহারকে ডিবক্সের মধ্যে ফেলে দেন ভারতীয় ডিফেন্ডার পাকপি দেবী। শ্রীলঙ্কার রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছেন তখনই। শামসুন্নাহারই নেন পেনাল্টি কিক, সফলও হন তিনি।

বিরতির পর আক্রমণের ধার একটুও কমায়নি বাংলাদেশ। পেয়ে যায় তারা আরও একটি গোল। ৫১ মিনিটে ঋতুপর্নার ক্রসে আনুচিং প্লেসিং করতে পারেননি। তবে দুই মিনিট পর হয়েছে ৩-০। আনাই মোগিনীর বাড়ানো বলে বক্সে ঢুকে মনিকা চাকমা এগিয়ে আসা গোলরক্ষক মনিকা দেবীর বাঁ দিক দিয়ে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন।