নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আদিবাসী এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের শিকার ওই যুবতীকে বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে নাটোর সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বাগাতিপাড়া উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামে। গ্রাম্য শালিসে বিচারের আশ্বাস দিয়ে অস্বীকার করেছে কথিত ধর্ষক একই গ্রামের পাউলুস কিসকুর ছেলে মিখায়েল কিসকু।

ধর্ষিতার ছোট বোন ও চাচি জানায়, ধর্ষণের শিকার ওই যুবতীর বাবা-মা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। বাড়িতে তার ছোট একবোন ও এক ভাই বসবাস করে। ২০ নভেম্বর ওই প্রতিবন্ধী নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ছোট বোনের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় ছোট বোন গির্জায় পার্থনা করতে যাওয়ায় বাড়িতে অন্য কেউ ছিল না।

এই সুযোগে প্রতিবেশী পাউলুস কিসকুর ছেলে মিখায়েল কিসকু (১৮) ওই প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ করে এবং এব্যাপারে কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখায় । পরে বিষয়টি আত্মীয়-স্বজন ও গ্রাম প্রধানদের জানানো হয়। এ ব্যাপারে ২১ নভেম্বর গ্রাম প্রধান ও স্থানিয়রা গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন।
কিন্তু ধর্ষকের পরিবারের তোপের মুখে তা ভুন্ডুল হয়ে যাওয়ায় বিচার পায়না ধর্ষিত ওই প্রতিবন্ধির পরিবার।
এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই প্রতিবন্ধি যুবতী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তার ছোট বোন অন্য স্বজনদের সহায়তায় ২২ নভেম্বর চিকিৎসার জন্য বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় তাকে। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে নাটোর সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করে।

গ্রাম প্রধান সুনিয়াজ মারান্ডি বলেন, অভিযুক্ত মিখায়েল কিসকু ঘটনা বিষয়ে অস্বীকার করায় কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। তবে মিখায়েল কিসকু একজন বখাটে। ইতিপূর্বে গবাদি পশুর সাথে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে। এঘটনায় গ্রাম্য সালিশে তাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নাটোর সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।

নাটোর সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, ধর্ষিত হওয়ার কথা বলে মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবতীকে বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত বিষয় বলা সম্ভব হবে।

বাগাতিপাড়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাটি শোনার পর ওসি তদন্তকে সদর হাসপাাতলে পাঠানো হয়েছে ভিকটিম বা তার পরিবারের জবানবন্দী নিতে। নাটোরে আসার পর ভিকটিমের বাবা-মায়ের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।