শিক্ষক-সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে বান্দরবানের পাহাড়ি ছাত্রছাত্রীরা মানসম্পন্ন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন পরীক্ষায় তারা পিছিয়ে পড়ছে।

গতকাল শুক্রবার বান্দরবানের জেলা শহরতলির ফারুকপাড়ায় সম্মিলিত আদিবাসী ছাত্র সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত শিক্ষা সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন। সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানসম্মত শিক্ষার জন্য সাত দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হোসেন কবীর। প্রধান আলোচক ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক বসুমিত্র চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের বান্দরবান জেলা সভাপতি জুয়ামলিয়ান আমলাই বম, রুমা সাঙ্গু কলেজের অধ্যক্ষ সুইপ্রু অং মারমা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন থোয়াইক্য জাই চাক।

সভায় বক্তারা বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু করলেও বাস্তবে সেটির কোনো প্রতিফলন নেই। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে শিক্ষক-সংকটের কারণে পাঠদান হয় না বললেই চলে। এ অবস্থায় পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে। মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের জন্য পাহাড়ি শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু, উচ্চশিক্ষায় পাহাড়ি কোটা বৃদ্ধি, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কলেজগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু এবং কারিগরি ও প্যারামেডিকেল ইনস্টিটিউট স্থাপনের দাবি জানান তাঁরা।