গণসংগীত শিল্পী ও উদীচী চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি রবীন দে মারা গেছেন।

বুধবার গভীর রাতে নগরের নন্দনকানন এলাকার নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মৃত্যুকালে রবীন দের বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে রবীন দের মরদেহ নিয়ে আসা হলে সংগীতশিল্পী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, লেখকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের প্রচার সম্পাদক রমেন দাশগুপ্ত জানান, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দেশাত্মবোধক দেশপ্রেমের যে সঙ্গীত দিয়ে প্রতিবাদের শুরু হয়েছিল, ১৯৪৭ এ ভারতবর্ষ ভাগের পর থেকে সেই চেতনা শোষণমুক্তির গান গণসঙ্গীতে রূপ নেয়। চট্টগ্রামের যে কজন জাগরণের পথ অনুসরণ করে গেছে তাদের অন্যতম ছিলেন রবীন দে। প্রগতিশীল ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মানবমুক্তির সেই গানকে কণ্ঠে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। অসময়ে তার এই চলে যাওয়া আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

গণসংগীত শিল্পী রবীন দে ছাত্রাবস্থাই বামপন্থি ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। যুক্ত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচী ও কমিউনিস্ট পার্টির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। তিনি সর্বশেষ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর চট্টগ্রাম জেলার সহ-সভাপতি, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ-সভাপতি ছিলেন।

বিভিন্ন সংগীত বিদ্যালয়ে শিশু-কিশোরদের সঙ্গীতের শিক্ষা দিতেন এই গণসংগীত শিল্পী। এছাড়া চট্টগ্রামের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একজন সংগঠক ছিলেন রবীন দে। তিনি গণসংগীত গাওয়ার পাশাপাশি গান লিখতেন এবং সুর করতেন।

ফুল দিয়ে প্রয়াত গণসংগীত শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, ফুলকী, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী, বোধন আবৃত্তি পরিষদ, গণজাগরণ মঞ্চ, রক্ত করবী, আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠী, সম্মিলিত আবৃত্তি জোট, অনোমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, প্রবর্তক সংঘ পরিচালনা পরিষদ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সংগঠন।

এ সময় শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন শিল্পী আবুল মনসুর, শিশির দত্ত, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি একিউএম সিরাজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ রীতা দত্ত, উদীচীর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি চন্দন দাশসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। দুপুরে নগরীর অভয়মিত্র মহাশ্মশানে রবীন দের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।