Indigenous Peoples News http://ipnewsbd.com Bangladesh Sun, 22 Apr 2018 10:00:11 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=4.9.5 খোকা স্যারঃ আলোর পথে নিভৃতচারী অভিযাত্রী http://ipnewsbd.com/news/7172 http://ipnewsbd.com/news/7172#respond Sun, 22 Apr 2018 09:41:50 +0000 http://ipnewsbd.com/?p=7172 শ্যাম সাগর মানকিন: ছয় ভাই-বোনের মধ্যে বাবা-মার একমাত্র ছেলে সন্তান তাই আদর করে খোকা বলে ডাকতো সবাই। এখনো সে নামেই বেশ পরিচিত মুখ বান্দরবান শহরের উজানী পাড়ার স্কুল শিক্ষক ক্য শৈ প্রু মারমা। শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে আদিবাসী মারমা জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার জন্য পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে তার অবদান সর্বজন বিদিত ও সন্মানিত। মারমা ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা মারমা শিশু শিক্ষার্থীদের কাছে পৌছে দিতে কাজ করে গেছেন দিনের পর দিন। স্কুলের শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও এখনো মাতৃভাষায় মারমা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের কাজের সাথে জড়িয়ে রেখেছেন নিজেকে। অসামান্য এই গুনী মানুষের জন্ম ১৬ জানুয়ারি ১৯৪৯ সালে বান্দরবনে। বাবা সা থোই অং ছিলেন বান্দরবান সদর হাসপাতালের কম্পাউন্ডার আর মা সুই ম্রা চিং পুরোদস্তুর গৃহিনী। ক্য শৈ প্রু মারমা খোকা ডনবস্কো উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৭৬ সালে তিনি ডন বস্কো উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ৩৮ বছর শিক্ষকতার পর ২০১৪ সালে অবসরে যান। স্ত্রী ম্য য়ে প্রু মারমা ছিলেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের অফিস সহকারী। তিনিও অবসরে গেছেন। সংসার জীবনে দুই ছেলে এক মেয়ের বাবা। বড় দুই ছেলের বিয়ে হয়েছে, তাদের বাচ্চাও হয়েছে। এখন অখন্ড অবসরে নাতিপুতিদের সাথে আর বান্দরবান ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পালকত্বের কাজ করেই সময় কাটান। ১৯৮৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বান্দরবান ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পালক ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
শিক্ষা জীবন শুরু হয় বান্দরবান পাড়ার একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেটা পরে বান্দরবান পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। হাই স্কুল তৎকালীন নারানগিরী পাইলট হাই স্কুল, চন্দ্রঘোণা, সেখান থেকেই এসএসসি পাশ করেন ১৯৬৬ সালে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার স্যার আশুতোষ কলেজে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশ করেন ১৯৬৮ সালে । দুটো প্রতিষ্ঠানই পরবর্তীতে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। সে বছরই ডিগ্রীতে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু পড়ালেখা আর শেষ করা হয়নি। এমন অবস্থায় ডন বস্কো উচ্চ বিদ্যালয় বান্দরবনে শিক্ষকতায় যোগ দেন তিনি।
ডন বস্কো উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সময় মাতৃভাষা রক্ষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি। উনার ভাষায়, বিভিন্ন সভা সেমিনারে গেলে অনেকে জিজ্ঞেস করতো আপনার মাতৃভাষা আছে, বর্ণমালা আছে, কথাও বলতে পারেন কিন্তু আপনি কি আপনার মাতৃভাষায় লিখতে পড়তে পারেন? মাতৃভাষা থাকা সত্বেও মাতৃভাষার বর্ণমালার জ্ঞান নাই, তাতে কিছুটা লজ্জিত হলাম। সেই গুলো থেকে নিজের তাগিদ তৈরি হলো মাতৃভাষার প্রতি। বাংলা ইংরেজী ভাষা সেতো জীবন জীবিকার তাগিদ। কিন্তু নিজের আত্মার, শ্বাস-প্রশ্বাসের যে তাগিদ, নিজ জাতিসত্বার রক্ত কণিকার যে তাগিদ, হৃদপিন্ডের যে তাগিদ তার ব্যাপারে তো কোন অবদান রাখতে পারলাম না! সে থেকে নিজ প্রচেষ্টায় মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে শেখা টা রপ্ত করে নিলাম। রপ্ত করার পর মনে হলো, মাতৃভাষায় শিক্ষা কেবল নিজে রপ্ত করলে তো আর হবেনা। মাতৃভাষায় শিক্ষা প্রজন্মের কাছে পৌছে দেবার দায় বোধ করলাম। সেই তাগিদ থেকেই মূলত মাতৃভাষায় শিক্ষা নিয়ে কাজ করা শুরু করলাম।
যেহেতু সরকারি উদ্যোগের আগে বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান সমূহ আগে এই নিয়ে কাজ শুরু করেছিলো তাই তাদের হাত ধরেই প্রথম শিশুদের জন্য মারমা ভাষায় বই লেখার কাজে হাত দিয়েছিলেন ক্য শৈ প্রু মারমা। বলে রাখা ভালো কাজগুলো তিনি একা করেননি, একটা কমিটির মাধম্যে কাজগুলো সম্পন্ন হতো। কিন্তু কাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তিনি সবসময় ছিলেন। প্রথম কাজ ইউএনডিপির সাথে ১৯৯৬ সালের দিকে। সে সময় তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে মারমা-চাকমা-ত্রিপুরা ভাষা নিয়ে কাজ করেছিলো। মারমা ভাষায় বই প্রকাশের জন্য একটা ল্যাংগুয়েজ কমিটি করা হয় যেখানে তিনি সভাপতি হিসেবে বই প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে ইউএনডিপির পরিচালনায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য বাচ্চাদের উপযোগী বই প্রণয়ন করেন। যেখানে মারমা ভাষাভাষী শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য মারমা ভাষার প্রাথমিক পরিচয়, বর্ণমালা পরিচিতি, সাধারণ গণনা ইত্যাদি প্রাথমিক বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত ছিলো। এটাই ছিলো মারমা ভাষায় বই প্রণয়নের তার প্রথম কাজ। পরবর্তীতে ২০০২-২০০৩ এর দিকে খ্রিষ্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ সংক্ষেপে সিসিডিবি-র একটা প্রজেক্ট আসে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার। সেখানে তিনি আবার বই প্রণয়নের দায়িত্ব পান। সিসিডিবি তাদের স্কুলের জন্য মারমা ভাষায় বই প্রকাশের করতে তার কাছে গেলে তিনি সিসিডিবির সেই কাজে যুক্ত হন।
এরপর ২০০৫ সালে কারিতাস থেকে আসে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার জন্য পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের দায়িত্ব। সে সময় কারিতাসের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২০-৩০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিলো। মারমাপাড়ায় মারমা শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদানের উদ্দেশ্যে বই প্রকাশের সে কর্মযজ্ঞে তিনি সে বছর যুক্ত হন। সেটা কারিতাসের একটা প্রজেক্ট আইসিডিবি সিএইচটির অংশ ছিলো। সেখানে গ্রেড ১ থেকে গ্রেড ৩ পর্যন্ত বই প্রকাশের কাজ করেন তিনি। সমস্যা দেখা দিলো যখন কারিতাসের বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকবৃন্দ পড়াতে গেলেন। মারমা ভাষা বলতে পারলেও নিজ বর্ণমালায় লেখা ও পড়া কেউ পারেননা। উনার ভাষায়, কারিতাস থেকে আমাকে বলা হল যে কারিতাসের স্কুলের শিক্ষকরা নিজেরাও মারমা ভাষা নিজ বর্ণমালায় লিখতে ও পড়তে পারেনা। ফলে তাদেরকেই আগে কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করার প্রয়োজন হল। ২০০৫ থেকেই ব্যাচ আকারে কারিতাস স্কুলের শিক্ষকদের মারমা ভাষায় প্রশিক্ষন দেওয়া শুরু হলো। আমি সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলাম।
কারিতাসের পর বান্দরবানের স্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইকো ডেভেলপমেন্ট বই প্রকাশের জন্য খোকা স্যারের শরণাপন্ন হন। । ২০১১-১২ তে ইকো ডেভেলপমেন্টের জন্য গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ এর বই প্রকাশ করা হয়। পরে ২০১৩-১৪ তে সেই বইয়ের উপর ইকো ডেভেলপমেন্টের স্কুলের শিক্ষকদের প্রশিক্ষন দিতে হলে তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন।
ইকো ডেভেলপমেন্টের সমসাময়িক সময়ে সেভ দ্য চিলড্রেন সংস্থার জন্য মারমা ভাষায় বই প্রকাশের কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। সেখানে প্রি-প্রাইমারি থেকে গ্রেড ৩ এর শিক্ষার্থীদের উপযোগী বই প্রকাশ করা হয়। সেভ দ্য চিলড্রেন কাজটি করেছিলো জাবারাং নামে এক পার্বত্য সংস্থার সহযোগীতায়। পরবর্তীতে তাদের সংস্থার স্কুলগুলোর যে শিক্ষকরা ছিলেন তাদেরকেও প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন খোকা স্যার।
এছাড়া ১৯৯৯ সালে বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে বয়স্ক শিক্ষার আদলে মারমা মাতৃভাষার প্রশিক্ষন কোর্স তৈরি ও তার উপযোগী মারমা ভাষা শিক্ষার জন্য পুস্তক প্রণয়ন করেন তিনি। যেটি এখনো বহাল রয়েছে। সেখানে তিনি প্রথমে পরীক্ষক হিসেবে ছিলেন। তারপর সেই কোর্সের প্রশিক্ষকও হন। তবে বর্তমানে আবার সেই মাতৃভাষা প্রশিক্ষন কোর্সের পরীক্ষক হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছেন।
সরকারি উদ্যোগে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও পরোক্ষ অংশগ্রহন করেছিলেন। সরকারি উদ্যোগে যখন আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা উপযোগী বই প্রকাশ করা হচ্ছে সে সময় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন তিনি। মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার যে পদক্ষেপ সরকার কর্তৃক নেয়া হচ্ছে তাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি। দেরিতে হলেও সরকারের এই পদক্ষেপে আশার আলো দেখেন তিনি। তার ভাষায়, মারমা মাতৃভাষায় শিশু শিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যাপারে এনজিওরাই অগ্রগামী, এবং তাদের ভূমিকাটাই অধিক। তবে বিলম্বে হলেও জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১০র প্রেক্ষিতে সরকারি ভাবে, জানামতে প্রাক-প্রাথমিক পাঠ্যবই, প্রথম শ্রেনীর পাঠ্যবই তৈরি হয়ে গেছে। দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠ্যবই প্রক্রিয়াধীন। হিল ট্র্যাক্টস অঞ্চলে মারমা-চাকমা-ত্রিপুরা তিন ভাষার বই হয়েছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের কোর্স কো অর্ডিনেটরের মাধ্যমে আমাকে অনুরোধ করা হল, যেনো প্রাক-প্রাথমিক যে বই এনসিটিবি করেছে তার উপরে কাউখালীতে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের মারমা ভাষার শিক্ষকদের প্রশিক্ষন দেয়া হয়। আমি সেটা করেছি। তারমানে সরকারি ভাবে মাতৃভাষায় বই হয়েছে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে যা খুব ইতিবাচক।
মারমা মাতৃভাষায় গানও লিখেছেন । গান লেখার ব্যাপারটা খুব জোরসোরে না হলেও চর্চার মধ্যে ছিলো। চার্চের পালক হিসেবে মারমা চার্চের জন্য গান লিখেছেন তিনি। মাঝে মাঝে স্কুলের শিক্ষার্থীরা গান লিখে দিতে বললে লিখে দিতেন । সে সুবাদে মারমা ভাষায় কিছু প্রেমের গান লেখা হয়। তাছাড়া শিশুদের শিক্ষামূলক ছড়াগানও লিখেছেন। সব মিলিয়ে ২০-৩০ টার মতন গান লিখেছেন তিনি।
ক্য শৈ প্রু মারমা খোকা বান্দারবান সদরে অবস্থিত ডন বস্কো হাই স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ১৯৭৬ সালে। কর্মজীবনে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ নানা পুরষ্কারে ও সন্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে শিক্ষা সপ্তাহ অনুষ্ঠানে বান্দরবান জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কার ও সন্মাননা লাভ করেন। বান্দরবান জেলা শিল্পকলা একাডেমি ২০১৪ সালে লোক সংস্কৃতি বিভাগে গুণীজন সন্মাননায় ভূষিত করেন তাকে। ২০১৫ সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরষদের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, গবেষণা ও সৃজনশীলতা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ সন্মাননা লাভ করেন। তাছাড়া বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট, মোনঘর, বান্দরবান একুশে বইমেলা প্রভৃতি থেকে নানান সন্মাননা গ্রহন করেন তিনি।
মাতৃভাষার মাধ্যমে যদি প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করা যায়, তবে সেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে অগ্রগতিটা খুবই সহায়ক হয়। কিন্তু পরভাষায়, পরভাষার বর্ণমালা দিয়ে যদি শুরু করা হয়, তবে ভাষাগত বৈষম্যের কারনে, ভাষাগত তারতম্যের কারনে, বোধগম্যতার বাঁধার কারনে মানসন্মত শিক্ষার যে সুযোগ, মননশীলতা সহায়ক হয়না বলেই মনে করেন তিনি। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিশুশিক্ষা শুরু করলে সেই শিশু মাতৃভাষাসহ বহুভাষিক শিক্ষার মাধ্যমে জীবনে উৎকর্ষতা সাধন করতে পারে । তাছাড়া মাতৃভাষায় শিক্ষা চালু হলে আদিবাসী বিভিন্ন জাতিসত্তার ভাষা বিলুপ্তির হাত থেকে রেহাই পাবে বলে মত দেন তিনি। সে জন্যেই মাতৃভাষায় শিক্ষা প্রজন্মের হাতে পৌছে দিতে কাজ করে গেছেন, এখনো করে যাচ্ছেন ক্য শৈ প্রু মারমা খোকা।

]]>
http://ipnewsbd.com/news/7172/feed 0
প্রধানমন্ত্রী বরাবর জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রদত্ত স্মারকলিপি http://ipnewsbd.com/news/7166 http://ipnewsbd.com/news/7166#respond Sun, 22 Apr 2018 09:35:10 +0000 http://ipnewsbd.com/?p=7166 বরাবর
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
মাধ্যম: জেলা প্রশাসক, রাজশাহী।
বিষয় : স্মারকলিপি।
জনাব,
সর্বজনশ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৫নং সাপমারা ইউনিয়নের রামপুর, সাপমারা, মাদারপুর, নরেঙ্গাবাদ ও চকরহিমাপুর মৌজার ১৮৪২.৩০ একর ভূমি ‘রংপুর (মহিমাগঞ্জ) সুগার মিলের’ জন্য রিক্যুইজিশনের নামে কেড়ে নেয় তৎকালিন পূর্ব-পাকিস্থান সরকার। এলাকাটি সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম নামে পরিচিত। রিক্যুইজিশনের ফলে ১৫টি আদিবাসী গ্রাম ও ৫টি বাঙালি গ্রাম উচ্ছেদ হয়। কথা ছিল রিক্যুইজিশনের নামে গ্রামের মানুষের কাছ থেকে জোর করে কেড়ে নেয়া এই জমিনে আখ চাষ হবে। আখ ভিন্ন অন্য কোনো ফসল চাষ করা হলে বা চিনিকলের উদ্দেশ্যর সাথে সম্পর্কহীন কোনোকিছু করা হলে কেড়ে নেয়া এসব জমি আবারো ভূমি মালিকদের ফিরিয়ে দেয়া হবে। রিকুইজেশনের পর বেশ কিছু জমিনে আখ চাষ হয় এবং আখ ব্যবহার করে চিনিও উৎপাদিত হয়। কিন্তু চিনিকল কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি ও অব্যস্থাপনার দরুণ ৩১ মার্চ ২০০৪ সালে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে নানা সময় একবার চালু হয়, আবার বন্ধ হয় এভাবেই চলতে থাকে। চিনিকল কর্তৃপক্ষ নানাভাবে অধিগ্রহণকৃত জমি বহিরাগত প্রভাবশালীদের কাছে ইজারা দিতে শুরু করে। রিক্যুইজিশনের চুক্তি লংঘন করে কেবলমাত্র আখচাষের জন্য বরাদ্দকৃত জমিতে ধান, গম, সরিষা ও আলু, তামাক ও হাইব্রিড ভূট্টা চাষ শুরু হয়। জন্মমাটি থেকে উদ্বাস্তু আদিবাসী ও বাঙালিরা পুরো ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আনে। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সনের ৩০ মার্চ গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকা সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তকালে তারা উল্লিখিত জমিতে ধান, তামাক ও মিষ্টিকুমড়ার আবাদ দেখতে পান। কিন্তু গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন ১০ মে ২০১৬ তারিখে উক্ত ভূমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন সরকার বরাবর। বাপ-দাদার জমিনে অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবিতে আদিবাসী-বাঙালি ভূমিহীনদের তৈরি হয়েছে দীর্ঘ আন্দোলন। আন্দোলন দমাতে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন ভূমিহীনদের সংগ্রামে হামলা-মামলার বাহাদুরি চালাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচার গুলি চালিয়েছে প্রশাসন, নিহত ৩ জন ও আহত অনেক নারী পুরুষ। কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন আন্দোলনকারী নামে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়েছে। ১৯৬২ থেকে ২০১৮, দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে চিনি উৎপাদনের অজুহাতে রাষ্ট্র সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের ভূমিউদ্বাস্তু হাজারো মানুষের সাথে বর্ণবাদী অন্যায় করে চলেছে। ঘটনাটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সংবিধান, মানবিকতা ও আইন সবকিছুই লংঘন করে চলেছে। দ্রুত এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার জরুরি।
প্রিয় জননেত্রী, সুগার মিলের কারণে রিক্যুইজিশনের নামে কেড়ে নেয়া বাপ-দাদার জমিতে অধিকার ফেরত পাওয়ার দাবিতে সংগঠিত আমাদের সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের এই আন্দোলন নিছক ভূমি রক্ষার আন্দোলনই নয়। এই আন্দোলন দেশের সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার প্রতি গণমানুষের আস্থা ও বিশ্বাস মজবুতের লড়াই। আমরা বিশ্বাস করি সরকার এই আন্দোলনের দাবি ও বিবেচনাকে গুরুত্ব দিবে এবং ভূমিবঞ্চিত আদিবাসী ও বাঙালিদের ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। রিক্যুইজিশন কৃত জমি ভূমিবঞ্চিতদের মাঝে আইনতভাবে ফিরিয়ে দিয়ে সরকার গণতান্ত্রিক চর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে আমরা এই বিশ্বাস করি। আমাদের শেষ আশ্রয় ও ভরসাস্থল আপনি, আমাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে আপনিই এই সংকট থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারেন। আমরা বারবার নানাভাবে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে সরকারের কাছে আমাদের ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের জনদাবিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে না। তাই আবারো আমরা আপনার নিকট এই স্মারকলিপির মাধ্যমে আমাদের প্রস্তাব ও দাবিকে তুলে ধরছি। আমাদের অগাধ বিশ্বাস আপনি প্রান্তিক মানুষদের এই প্রত্যাশাকে বাস্তবায়িত করবেন।
প্রিয় জননেত্রী, গত ৬ই নভেম্বর ২০১৬ মিল কর্তৃপক্ষ বেআইনীভাবে (কোর্টের আদেশ ব্যতীত) আদিবাসীদের নির্মিত বসতবাড়ি, ফসলাদি ও মৎস্যখামারে পুলিশ, প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের দ্বারা উচ্ছেদের নামে নিরীহ আদিবাসীদের উপর হামলা বসতবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং বর্বরোচিতভাবে গুলিবর্ষণ করে। সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের সাঁওতাল পল্লীতে আদিবাসীদের স্কুল সন্ত্রাসীরা পুড়িয়ে ফেলে। পুলিশের গুলিতে ও নির্যাতনে শ্যামল হেমব্রম, মঙ্গল মারডি ও রমেশ টুডু নিহত এবং অনেকেই গুরুতর আহত হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে অনেককে পুলিশ গ্রেফতার করে। এমনকি পুলিশ আদিবাসী-বাঙালিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে অনেককে গ্রেফতার ও নির্যাতন করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। ৬ নভেম্বর ২০১৬ তা-বলীলার পর থেকে আদিবাসী সাঁওতাল জনগোষ্ঠী বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। সাঁওতালদের নিজস্ব ভাষায় যে স্কুলটি ছিল ঐদিন সন্ত্রাসীরা তছনছ করে নিশ্চিহ্ন করে ফেলে। আমরা শিশুদের জন্য পূর্বের স্থানে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পুন:স্থাপন করার জন জোর দাবী জানাচ্ছি।
অবিলম্বে আদিবাসীদের স্কুল স্বস্থানে পুননির্মাণসহ আদিবাসী বাঙালিদের ৭ দফা দাবী পূরণের লক্ষে আন্দোলনরত সংগ্রামে সর্বস্তরের জনগণকে শরিক হওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।
সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের আদিবাসী বাঙালিদের পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরত দাও
৬ নভেম্বর ২০১৬ আদিবাসী হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর, নির্যাতনের বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন কর ॥
সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির ৭ দফা দাবির পক্ষে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা:
১.গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-এর রিক্যুইজিশন (Requisition) করা ১৮৪২.৩০ একর সম্পত্তি আদিবাসীদের ফেরত দিতে হবে।
২.১৯৪৮ সালের The East Bengal (Emergency) Requisition of Property Act 1948 (No. VIII of 1948) মোতাবেক যে কার্যের জন্য (ইক্ষুচাষ) গ্রহণ হয় তা না করা হলে খেসারতসহ পূর্বমালিক আদিবাসীদের ফেরতের বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩.আদিবাসীদের সম্পত্তি কোন সরকার/কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রিক্যুইজিশন (Requisition) করা এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় এ ধরণের কার্য বাতিল ও পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করে আদিবাসীদের সম্পত্তি ফেরত দিতে হবে।
৪.আদিবাসী সাঁওতালপল্লীতে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং গুলি করে নিহত ও গুরুতর আহত করার সাথে জড়িত উস্কানীদাতা ও সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৫.৬ নভেম্বর ২০১৬ তারিখের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ আদিবাসী-বাঙালিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আদিবাসী-বাঙালি নারী-পুরুষের উপর স্থানীয় সন্ত্রাসীদের জুলুম ও পুলিশী হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৬.আদিবাসী সাঁওতালদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগকারী চিহ্নিত পুলিশ কর্মকর্তাসহ জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
৭.২০০৪ সালে সুগার মিল বন্ধের পর প্রভাবশালীদের মাঝে লিজের নামে যে অর্থআত্মসাৎ ও দুর্নীতি হয়েছে সেই দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অতএব, আমরা আপনার নিকট এই স্মারকলিপির মাধ্যমে আমাদের প্রস্তাব ও দাবিকে তুলে ধরছি। উক্ত ন্যায়সঙ্গত দাবীসমূহ পুরণে আপনার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করছি।
বিনীত নিবেদক
(বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়)
সভাপতি
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, রাজশাহী জেলা কমিটি
(সুসেন কুমার স্যামদুয়ার) সাধারণ সম্পাদক
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, রাজশাহী জেলা কমিটি

]]>
http://ipnewsbd.com/news/7166/feed 0
রাজশাহীতে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি http://ipnewsbd.com/news/7163 http://ipnewsbd.com/news/7163#respond Sun, 22 Apr 2018 09:17:39 +0000 http://ipnewsbd.com/?p=7163 সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, রাজশাহী:২২ এপ্রিল, রবিবার সকাল ১০ টার সময় জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটি উদ্দ্যোগে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে গত ০৬ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের আদিবাসী বাঙালিদের উপর বর্বর হামলা, অগ্নিসংগযোগ, লুটপাট, ভাংচুর, হত্যা, নির্যাতনের বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ রাজশাহী সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়। বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- সাধারণ সম্পাদক গণেশ মার্ডি, দপ্তর সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক শুসেন কুমার স্যামদুয়ার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি কল্পনা রায়, জনউদ্দোগ রাজশাহী ফেলো জুলফিকার আহম্মেদ গোলাম, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় সভাপতি নকুল পাহান প্রমূখ্য।
মানববন্ধন শেষে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নেতৃবৃন্দ রাজশাহী জেলা প্রশাসকের দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় ।
সমাবেশে বক্তরা বলেন, সারাদেশে আদিবাসীদের উপর হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর, নির্যাতন, ধর্ষন বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।৬ নভেম্বর ২০১৬ তা-বলীলার পর থেকে আদিবাসী সাঁওতাল জনগোষ্ঠী বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-এর রিক্যুইজিশন করা ১৮৪২.৩০ একর সম্পত্তি আদিবাসী বাঙালিদের ফেরত দিতে হবে। আদিবাসী বাঙালিদের সম্পত্তি কোন সরকার/কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রিক্যুইজিশন করা এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় এ ধরণের কার্য বাতিল ও পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করে আদিবাসীদের সম্পত্তি ফেরত দিতে হবে। আদিবাসী সাঁওতালপল্লীতে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং গুলি করে শ্যামল হেমব্রম, মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু নিহত ও গুরুতর আহত করার সাথে জড়িত উস্কানীদাতা ও সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৬ নভেম্বর ২০১৬ তারিখের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ আদিবাসী-বাঙালিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আদিবাসী-বাঙালি নারী-পুরুষের উপর স্থানীয় সন্ত্রাসীদের জুলুম ও পুলিশী হয়রানি বন্ধ করতে হবে। আদিবাসী সাঁওতালদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগকারী চিহ্নিত পুলিশ কর্মকর্তাসহ জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

]]>
http://ipnewsbd.com/news/7163/feed 0
আগামী সপ্তাহে লম্বা ছুটিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা http://ipnewsbd.com/news/7159 http://ipnewsbd.com/news/7159#respond Sat, 21 Apr 2018 16:37:52 +0000 http://ipnewsbd.com/?p=7159 সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডারের হিসেবে আগামী সপ্তাহে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লম্বা ছুটি পাচ্ছেন। ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত ৯দিনের মধ্যে মাত্র দু’দিন অফিস করতে হবে। বাকি সাত দিন ছুটি কাটাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
২৭ ও ২৮ এপ্রিল শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির ও ২৯ এপ্রিল রবিবার বুদ্ধ পূর্ণিমার সরকারি ছুটি পড়বে। ৩০ এপ্রিল সোমবার অফিস খোলা থাকবে। আবার পহেলা মে মঙ্গলবার মহান মে দিবসের ও পরদিন ২ মে বুধবার পবিত্র শবে বরাতের ছুটি কাটাবেন কর্মচারীরা । ৩ মে বৃহস্পতিবার অফিস খোলা। আবার পরের দুইদিন ৪-৫ মে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে।
এমন দীর্ঘ ছুটিতে অনেকেই নানা ভাবে ছুটি কাটাবেন। ঢাকার বসবাসরত অনেকেই গ্রামের বাড়িতে কিংবা বাইরে বেড়াতে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, ওই সপ্তাহে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

]]>
http://ipnewsbd.com/news/7159/feed 0
বৃষ্টি হলে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন http://ipnewsbd.com/news/7156 http://ipnewsbd.com/news/7156#respond Sat, 21 Apr 2018 16:30:32 +0000 http://ipnewsbd.com/?p=7156 শহরে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের বৃষ্টি হলে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। শনিবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বসবাসকারীদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুপুর ১২টার দিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. এ কে এম মামুনুর রশিদ শহরের শিমুলতলী, নতুনপাড়া ও মোনতলা এলাকায় যান। সেখানে ঝুঁকিতে বসবাসরত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। সতর্ক বার্তা হিসেবে বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। বৃষ্টি হলে যেন নিরাপদ স্থানে চলে যান তা নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসন। যারা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করছে, তাদের জন্য আগাম আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল আলম, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা তাপস শীল ও রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল হক প্রমুখ।

]]>
http://ipnewsbd.com/news/7156/feed 0
ভারতে শিশু ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ডের আইন হচ্ছে http://ipnewsbd.com/news/7152 http://ipnewsbd.com/news/7152#respond Sat, 21 Apr 2018 16:10:41 +0000 http://ipnewsbd.com/?p=7152 ১২ বছরের কম বয়সের শিশু ধর্ষণে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব ভারতের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় শনিবার ওই অর্ডিন্যান্স পাশ হয় বলে জানায় এনডিটিভি।
চলতি বছর জানুয়ারিতে জম্মু ও কাশ্মিরের কাঠুয়ায় যাযাবর সম্প্রদায়ের আট বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে মন্দিরে আটকে রেখে সাত দিন ধরে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই মন্দিরের পরিচালক এবং চার পুলিশ সদস্যসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
যার পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক ইউনিয়ন মন্ত্রী মানেকা গান্ধী মন্ত্রিসভায় এই প্রস্তাব পেশ করেন।
যদিও এ ধরনের প্রস্তাব এবারই প্রথম নয়। ২০১২ সালে রাজধানী দিল্লিতে বাসে ‘নির্ভয়া’ ধর্ষণকাণ্ডের পরও একই প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। কিন্তু সেবার মন্ত্রিসভায় ওই প্রস্তাব অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়।
ভারতের বর্তমান আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্ত বয়স্ক ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন এবং সর্বনিম্ম সাজা সাত বছরের কারাদণ্ড।
তথ্যসূত্র:এনডিটিভি

]]>
http://ipnewsbd.com/news/7152/feed 0
আদিবাসী-ধর্ম-বর্ণ পরিচয়ের কারণে বাংলাদেশে বৈষম্য ঘটছে: মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় http://ipnewsbd.com/news/7148 http://ipnewsbd.com/news/7148#respond Sat, 21 Apr 2018 15:59:53 +0000 http://ipnewsbd.com/?p=7148 বাংলাদেশে আদিবাসী-ধর্ম-বর্ণ-জেন্ডার-লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্য ঘটছে বলে মার্কিন সরকারে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ২০১৭ সালের বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই কথা বলা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে এর একাংশের জন্য দায়বদ্ধতার অভাবকেও দায়ী করা হয়েছে ।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন জে সালিভান এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মানুষ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আস্থা না পাওয়ায় অনেকেই সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে সহযোগিতা গ্রহণ করেন না বা অভিযোগ জানান না। বিচারহীনতার কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অপরাধ করেও পার পেয়ে গেছে।
বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ওপর বেসামরিক প্রশাসনের পূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ রয়েছে।
এতে বলা হয়, যেসব ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে সরকারি বাহিনীর দ্বারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, বেআইনি আটক ও গুম করে দেওয়া। বাক স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) কাজের স্বাধীনতা খর্ব করার মাধ্যমেও গুরুতরভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছে।

]]>
http://ipnewsbd.com/news/7148/feed 0
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এডিটরস কাউন্সিলের সাথে সরকারের বৈঠক http://ipnewsbd.com/news/7140 http://ipnewsbd.com/news/7140#respond Thu, 19 Apr 2018 10:19:19 +0000 http://ipnewsbd.com/?p=7140 প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সরকারের সাথে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন এডিটরস কাউন্সিল।
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ১২টি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হকও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদকদের মধ্যে নিউজ টুডের রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নিউ এজের নূরুল কবির, প্রথম আলোর মতিউর রহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নঈম নিজাম, ইনকিলাবের এ এফ এম বাহাউদ্দিন এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এ এইচ এম মোয়াজ্জেম হোসেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, সংবাদের খন্দকার মনিরুজ্জামান, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, কালের কণ্ঠের ইমদাদুল হক মিলন এবং নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
গত ২৯ জানুয়ারি ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
বৈঠকে অংশগ্রহণের পর এডিটরস কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহাফুজ আনাম। সাংবাদিকদের জানান, তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ছয়টি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, ইতোমধ্যেই আইনটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেটি বর্তমানে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আছে।

]]>
http://ipnewsbd.com/news/7140/feed 0
দিয়াস-কানেল কিউবার নতুন প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন http://ipnewsbd.com/news/7137 http://ipnewsbd.com/news/7137#respond Thu, 19 Apr 2018 07:27:44 +0000 http://ipnewsbd.com/?p=7137 রাউল কাস্ত্রোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিগেল দিয়াস-কানেলই হতে যাচ্ছেন কিউবার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।
নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের অধিবেশনে বুধবার কিউবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্যরা ৫৭ বছর বয়সী এ প্রকৌশলীকে প্রেসিডেন্ট পদের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বেছে নেন।

বিবিসি জানিয়েছে, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্যরা মিগেল দিয়াস-কানেলের মনোনয়ন প্রশ্নে ভোটাভুটি শেষ করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে রাউলের স্থলাভিষিক্ত ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার।

এক দশকের দায়িত্ব পালন শেষে এদিনই মিগেলের কাছে নেতৃত্বের ব্যাটন হস্তান্তর করবেন ৮৬ বছর বয়সী রাউল, যার মাধ্যমে চার দশক পর কিউবার প্রেসিডেন্ট হবেন এমন একজন, যার নামের শেষে ‘কাস্ত্রো’ নেই।

প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে গেলেও ২০২১ সালের পরবর্তী কংগ্রেস পর্যন্ত কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান থাকবেন রাউল। ফলে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকবে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।
তথ্যসূত্র: বিবিসি/রয়টার্স

]]>
http://ipnewsbd.com/news/7137/feed 0
জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের ১৭তম অধিবেশন চলছে http://ipnewsbd.com/news/7132 http://ipnewsbd.com/news/7132#respond Thu, 19 Apr 2018 03:11:48 +0000 http://ipnewsbd.com/?p=7132 গত ১৬ এপ্রিল ২০১৮ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে শুরু হওয়া জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের ১৭তম অধিবেশনে যোগদান করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)-র তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা। এছাড়া এই অধিবেশনে বাংলাদেশ থেকে আরও যোগদান করেছেন জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের সাবেক বিশেষজ্ঞ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা সার্কেল চীফ রাজা দেবাশীষ রায়, কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের প্রতিনিধি সমরজিৎ সিনহা, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি লিনা জে লুসাই, রাণী ইয়ান ইয়ান ও পিসিজেএসএস’র প্রতিনিধি অগাস্টিনা চাকমা। সারা বিশ্বের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র, জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা, শিক্ষক-গবেষক, মানবাধিকার সংগঠনের প্রায় ১২০০ প্রতিনিধি এই অধিবেশনে যোগদান করছেন। আগামী ২৮ এপ্রিল ২০১৮ পর্যন্ত এই অধিবেশন চলবে।

]]>
http://ipnewsbd.com/news/7132/feed 0